সারাংশ (২১-৩০)
প্র্যাকটিস ২১
মূল পাঠ: অনেকদিন থেকেই লিখে আসছি, জীবনের নানা পর্বের নানা অবস্থায় শুরু করেছি কাঁচা বয়সে- তখনও নিজেকে বুঝিনি। তাই আমার লেখার মধ্যে বাহুল্য এবং বর্জনীয় জিনিস ভুরি ভুরি আছে তাতে সন্দেহ নেই। এ সময় আবর্জনা বাদ দিয়ে বাকি যা থাকে আশা করি তার মধ্যে এই ঘোষণাটি স্পষ্ট যে, আমি ভালোবেসেছি এই জগৎকে, আমি প্রণাম করেছি এই মহৎকে, আমি কামনা করি মুক্তিকে যে মুক্তি পরম পুরুষের কাছে আত্মনিবেদনে, আমি বিশ্বাস করেছি মানুষের সত্য মহামানবের মধ্যে যিনি সদা জনানাং হৃদয়ে সন্নিবিষ্ট। আমি আবাল্য অভ্যস্ত ঐকান্তিক সাহিত্যসাধনার গণ্ডিকে অতিক্রম করে একদা সেই মহামানবের উদ্দেশ্যে যথাসাধ্য আমার কর্মের অর্ঘ্য, আমার ত্যাগের নৈবেদ্য আহরণ করেছি- তাতে বাইরের থেকে যদি বাধা পেয়ে থাকি অন্তরের থেকে পেয়েছি প্রাসাদ। আমি এসেছি এই ধরণীর মহাতীর্থে এখানে সর্বদেশ সর্বজাতি ও সর্বকালের ইতিহাসের মহাকেন্দ্রে আছেন নরদেবতা- তাঁরই বেদীমূলে নিভৃতে বসে আমার অহংকার আমার ভেদবুদ্ধি স্ফালন করবার দুঃসাধ্য চেষ্টায় আজও প্রবৃত্ত আছি। আমার যা কিছু অকিঞ্চিৎকর তাকে অতিক্রম করেও যদি আমার চরিত্রের অন্তরতম প্রকৃতি ও সাধনা লেখায় প্রকাশ পেয়ে থাকে, আনন্দ হয়ে থাকে, তবে তার পরিবর্তে আমি প্রীতি কামনা করে থাকি, আর কিছু নয়। এ কথা যেন জেনে যাই, অকৃত্রিম সৌহার্দ্য পেয়েছি, সেই তাঁদের কাছে যাঁরা আমার সমস্ত ত্রুটি সত্ত্বেও জেনেছে সমস্ত জীবন আমি কী চেয়েছি, কী পেয়েছি, কী দিয়েছি। আমার অপূর্ণ জীবনে অসমাপ্ত সাধনার কি ইঙ্গিত আছে। মর্তলোকের শ্রেষ্ঠদান এই প্রীতি আমি পেয়েছি এ কথা প্রণামের সঙ্গে বলি। পেয়েছি পৃথিবীর অনেক বরণীয়দের হাত থেকে তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা নয়, আমার হৃদয় নিবেদন করে দিয়ে গেলাম। তাঁদের দক্ষিণ হাতের স্পর্শে বিরাট মানবেরই স্পর্শ লেগেছে আমার ললাটে, আমার যা কিছু শ্রেষ্ঠ তা তাঁদের গ্রহণের যোগ্য হোক।
উত্তর: সাহিত্যিকের মনন
প্রারম্ভিক লগ্নের সাহিত্যসৃষ্টিতে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারণা ঘটে। কিন্তু তার মধ্যেই আছে বিশ্বের প্রতি মুগ্ধতা, মানুষের প্রতি আস্থা, মহত্ত্বের উদ্দেশ্যে প্রণতি ও মুক্তির প্রতি আকাঙ্ক্ষা। এই কাজে বাহ্যত প্রতিবন্ধকতা থাকলেও রয়েছে মানসিক তৃপ্তি। বৈচিত্র্যময় বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছে যে মানুষ, তার কাছেই সাহিত্যিক নিবেদিত প্রাণ। নিজের ক্ষুদ্রতা ও সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে যারা প্রেমের বন্ধনে তাঁকে আবদ্ধ করেন, তাঁদের কাছে সাহিত্যিক হৃদয় উজার করে দেন।
সারাংশ প্র্যাকটিস ২২
মূল পাঠ: মহৎ কার্য করিতে হইলে তিনটি জিনিসের আবশ্যক। প্রথমত হৃদয়বত্তা, আন্তরিকতা আবশ্যক। বুদ্ধি ও বিচারশক্তি আমাদিগকে কতটুকু সাহায্য করিতে পারে? উহারা আমাদিগকে কয়েক পদ অগ্রসর করে মাত্র। কিন্তু হৃদয়দ্বার দিয়েই মহাশক্তির প্রেরণা আসিয়া থাকে। প্রেম অসম্ভবকে সম্ভব করে জগতের সকল রহস্যই প্রেমিকের নিকট উন্মুক্ত। হে ভাবী যে মানুষের গৌরব স্বদেশহিতৈষীগণ! তোমরা হৃদয়বান হও, প্রেমিক হও। তোমরা কি প্রাণে প্রাণে বুঝিতেছ যে অজ্ঞানের কৃষ্ণমেঘ সমগ্র ভারত গগনকে আচ্ছন্ন করিয়াছে? তোমরা কি এই সকল ভাবিয়া অস্থির হইয়াছে?
উত্তর: প্রেমের শক্তি
যুক্তিবাদী মানসিকতা জীবনে চলার পথে সাহায্যকারী ভূমিকা পালন করে মাত্র। কিন্তু প্রকৃত কর্মোদ্দীপনার উৎস মানবিক প্রেম। তাই আগামীদিনের দেশসেবার ব্রতে দীক্ষিত মানুষকে ভালোবাসার শক্তিতে বলীয়ান হতে হবে।
সারাংশ প্র্যাকটিস ২৩
মূল পাঠ: চল নামি - আষাঢ় আসিয়াছে চল নামি। আমরা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বৃষ্টিবিন্দু, একা একজনে যুথিকাকলির শুষ্ক মুখও ধুইতে পারি না - মল্লিকার ক্ষুদ্র হৃদয় ভরিতে পারি না। কিন্তু আমরা সহস্র সহস্র, লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি, মনে করিলে পৃথিবী ভাসাই। ক্ষুদ্র কে যে একা সে ক্ষুদ্র, সে সামান্য। যার ঐক্য নাই, সেই তুচ্ছ। দেখ, ভাইসকল, কেহ একা নামিও না- অর্ধপথে ওই প্রচণ্ড রবির কিরণে শুকাইয়া যাইবে চল, সহস্রে, লক্ষে লক্ষে, অর্বুদে অর্বুদে, এই পৃথিবী ভাসাইব।
উত্তর: একতার শক্তি
সমাজে একক অবস্থান দুর্বলতার নামান্তর। পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই উপযুক্ত পারিপার্শ্বিক পরিবেশে সঙ্ঘবদ্ধতাই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে।
সারাংশ প্র্যাকটিস ২৪
মূল পাঠ: মানুষ যে অসাধ্যসাধন করতে পারে এ ধারণা আগেও ছিল, কিন্তু মন্ত্রতন্ত্রের সাহায্যে। এখন এই মন্ত্রতন্ত্রের স্থান নিয়েছে বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি। তার পেছনে রয়েছে অবশ্য এই প্রতীতি যে মানুষই মানুষের নিয়ন্তা। বাইরের কোনো অলৌকিক শক্তি নয়। প্রকৃতির সমস্ত রহস্য এখনো অধিগত হয়নি, কিন্তু হতে পারে এমন সম্ভাবনা আছে। মানুষের ভিতরেও রয়েছে অপার সম্ভাব্যতা। সে হতে হতে কি যে হয়ে উঠবে তা সে নিজেই জানে না। সুপারম্যান হওয়াও অসম্ভব নয়। সেকালে লোকে তপস্যা করত স্বর্গের ইন্দ্র হতে। একালের বিশ্ব মানচিত্রে স্বর্গের অবস্থান অজানা। ইন্দ্রের হাতে ছিল বজ্র। তার চেয়েও শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা এখন মানুষের হাতে। আরো শক্তিশালী মারনাস্ত্র এরপর হাতে আসতে পারে। রেনেসাঁসের পূর্বে বৌদ্ধরা বিশ্বাস করতেন যে, মানুষ সাধনা করলে বুদ্ধত্ব লাভ করতে পারে। আর বুদ্ধ যিনি হন তিনি দেবতাদের চেয়েও ঊর্ধ্বে। দেবত্ব লাভ করাই বড়ো কথা নয়। রেনেসাঁসের পরে হিউম্যানিস্টরা বিশ্বাস করেন যে দেবত্বলাভ বা বুদ্ধত্বলাভ শেষ কথা নয়। শেষ বলে কোনো কথা নেই।
উত্তর: মানবসভ্যতার ধারাবাহিকতা
আদিকালের অতিপ্রাকৃত শক্তিকে আশ্রয় করে মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা করলেও বর্তমানে তার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান। অজানাকে জানার আশা নিয়েই মানুষ আগামীর দিকে এগিয়ে যায়, কখনো আবার নিজেকে সজ্জিত করে মারণাস্ত্রে। বর্তমানে চূড়ান্ত জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে মানুষ সচেতন হয়ে উঠেছে।
সারাংশ প্র্যাকটিস ২৫
মূল পাঠ: জগৎ ও জীবনের রহস্য পরমতম সত্য। আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ও বিশ্বসৃষ্টির মূলীভূত শক্তির সন্ধানে মানুষ ঈশ্বরের শরণাপন্ন হয়। সৃষ্টির আদিম ক্ষণ থেকে মানুষ এক অতিলৌকিক শক্তিকে ঈশ্বরের মর্যাদায় উন্নীত করেছে। এই শক্তিকে বিশ্বনিয়ন্তা ও অবিনাশী শক্তি বলা হয়েছে। মানুষ মনে করে যে তিনিই বিশ্বস্রষ্টা। তিনি স্বয়ম্ভূ, তিনি বাক্য, মন ও চক্ষুর অগোচর। মানুষ তাই ঈশ্বরকে খুঁজে বেড়ায় দেবালয়ে অর্থাৎ মন্দির, মসজিদ, গির্জা প্রভৃতি স্থানে। মানুষ ভাবে যে ওই সমস্ত স্থানেই ঈশ্বরের বসবাস। কিন্তু বাস্তববুদ্ধি দিয়ে বিচার করলে দেখা যায় যে জীবের মধ্যেই ঈশ্বরকে পেতে মন্দির, মসজিদে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, জীবকে আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা করলেই প্রকৃতভাবে ঈশ্বরসেবা করা হয়। তথাপি কিছু মানুষ আছে যারা আনুষ্ঠানিক ধর্মাচরণ, পূজা মন্ত্র আরাধনা ইত্যাদির মাধ্যমে ঈশ্বর লাভে তৎপর হয়। কিন্তু জীবকে অবজ্ঞা করে, মানুষের নারায়ণকে উপেক্ষা করে কখনোই ঈশ্বরের অনুসন্ধান সার্থক হতে পারে না। যুগে যুগে বহু মনীষী জীবসেবাকেই ঈশ্বরপ্রাপ্তির চরম উপায় বলে নির্দেশ করে গিয়েছেন। আর্তের সেবা, অসহায়ের উদ্ধার, পীড়িতের শুশ্রূষা, সর্বোপরি জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে জীবের প্রতি প্রীতি প্রদর্শন করাই ঈশ্বর লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়। জীবের মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরের প্রকাশ। অতএব জীবসেবাতেই ঈশ্বর পরিস্ফুট হয়। প্রতিটি মানুষের উচিত অপরকে ভালোবাসা, অপরের সেবা করা। সেবাই হল ঈশ্বর সাধনার প্রধান পথ। যেদিন মানুষ জীবসেবাকেই ঈশ্বরসেবার প্রধান পথ হিসাবে বেছে নেবে সেদিন মানুষ প্রকৃত ঈশ্বরের সন্ধান পাবে।
উত্তর: প্রকৃত ধর্মচর্চা
সভ্যতার সৃষ্টিলগ্ন থেকে মানুষের কল্পনায় দেবতা এক অতিপ্রাকৃত শক্তির অধিকারী সত্তা হিসাবে ধরা দিয়েছে। সমস্ত জাগতিক নিয়মের ঊর্ধ্বে অবস্থানকারী এই দেবত্বকে সে সন্ধান করে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে। অথচ প্রতিটি প্রাণির মধ্যেই ঈশ্বর অবস্থান করেন। লোকদেখানো ধর্মপালনের পরিবর্তে জীবসেবাই যে মানুষকে ঈশ্বরপ্রাপ্তি ঘটাতে পারে, মহাপুরুষদের বাণীতেই তা প্রমাণিত হয়েছে। তাই মানুষের পারস্পরিক প্রেমই ধর্মসাধনার একমাত্র পথ।
সারাংশ প্র্যাকটিস ২৬
মূল পাঠ: বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা যে নতুন কালের উপযোগী মূল্যবোধ সৃষ্টি করতে পারেনি, তা ভারতীয় সমাজের দিকে তাকালেই বোঝা যায়। তাই দেশের উত্তরে পূবে-পশ্চিমে হিংসা জাতিবৈরিতা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ছে। উপজাতিদের জনজাতিগোষ্ঠীর হিংসাশ্রয়ী কার্যকলাপ কাশ্মীরে পাঞ্জাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ক্রমবর্ধমান। ড্রাগের নেশা সাট্টা জুয়ায় দেশ ছেয়ে গেছে। রাজনীতিতে কর্পোরেশনে সরকারি অফিসে শিক্ষাক্ষেত্রে এমনকী আইন-আদালতে দুর্নীতির ছায়া পড়তে শুরু করেছে, কোথাও কম কোথাও বেশি। একালের ছাত্ররা সোজা হয়ে বসতে কিংবা দাঁড়াতে শেখেনি, অকপট ও সরলভাবে কথা বলতে শেখেনি, সদাচার ও শিষ্টাচার শেখেনি। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা তাদের নৈতিক মানের উন্নয়ন ঘটায়নি। তারা অব্যবস্থিতচিত্ত, স্বেচ্ছাচারী, উদ্ধত ও অস্থিরমতি। অসদাচার ও মিথ্যাচারের জন্য তারা লজ্জিত নয়। শিক্ষকরাও স্বার্থ ও ব্যক্তিগত লাভের দিকেই আগ্রহী। যেনতেন প্রকারেণ নিজের উন্নতি প্রতিপত্তি যশ মর্যাদা বিত্ত করায়ত্ত করাটাই তাঁদের লক্ষ্য। ছাত্রদের স্বার্থ আজ তাঁদের লক্ষ্যের মধ্যে আর নেই। পারিবারিক কলহ ও অশান্তি, পিতামাতার, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীর বেশভূষা, আচার-আচরণ, স্কুল কলেজে সুশিক্ষার অভাব, কুরুচিপূর্ণ ফিল্ম ও টেলিভিশনের প্রভাব, সমাজের সর্বস্তরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিজ্ঞতা কিশোরমনকে সমাজদ্রোহী করে তোলে।
উত্তর: আধুনিক শিক্ষার সীমাবদ্ধতা
সমসাময়িক শিক্ষাপদ্ধতি মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হওয়ায় অবক্ষয়িত মূল্যবোধ নানাবিধ সমস্যার জন্ম দিচ্ছে। সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রে নীতিহীনতা, পারস্পরিক শত্রুতা, রুচিভ্রষ্টতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সমস্ত নেতিবাচক আচরণ তাঁদের নৈতিক মানের অবনমন ঘটাচ্ছে যার সুদূরপ্রসারী ফল অত্যন্ত মারাত্মক ও ভয়ঙ্কর।
সারাংশ প্র্যাকটিস ২৭
মূল পাঠ: বিচ্ছিন্ন ঘটনাবলীকে এক করিতে ও মৃত তথ্যগুলিতে জীবনসঞ্চার করিতে যখন কল্পনা ও সহানুভূতি নিতান্তই চাই তখন সে বিষয়ে আমাদের পরের উপরে নির্ভর করিলে চলিবে না। সংগ্রহ কার্যে পরের সহায়তা লইতে আপত্তি নাই, কিন্তু সৃজন কার্যে আপনার শক্তি প্রয়োগ করিতে হইবে। ভারতবর্ষীয়দের দ্বারা ভারতবর্ষের ইতিহাস রচিত হইলে পক্ষপাতের আশঙ্কা আছে। কিন্তু পক্ষপাত অপেক্ষা বিদ্বেষ ও সহানুভূতির অভাবে ইতিহাসকে ঢের বেশি বিকৃত করে। তাহা ছাড়া এক দেশের আদর্শ লইয়া আর এক দেশে খাটাইবার প্রবৃত্তি বিদেশীর লেখনীমুখে আপনি আসিয়া পড়ে, তাহাতেও শুভ হয় না।
উত্তর: আদর্শ ইতিহাস রচনা
ঐতিহাসিক ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য সহৃদয় কল্পনাশক্তি প্রয়োজন। তাই এই ধরনের সৃষ্টিশীল কাজে অন্যের সাহায্য অপেক্ষা আত্মনির্ভরতা বাঞ্ছনীয়। পক্ষপাতদুষ্ট ইতিহাসের চেয়েও বৈরিতাপূর্ণ ও অনুভূতিহীন ইতিহাস রচনা এবং আরোপিত ইতিহাসবোধ অনেক বেশি ক্ষতিকর।
সারাংশ প্র্যাকটিস ২৮
মূল পাঠ: প্রকৃতি তাহার রূপরস লইয়া, মানুষ তাহার বুদ্ধিমন, তাহার স্নেহপ্রেম লইয়া আমাকে মুগ্ধ করিয়াছে-সেই মোহকে আমি অবিশ্বাস করি না, এই মোহকে আমি নিন্দা করি না। তাহা আমাকে বদ্ধ করিতেছে না, তাহা আমাকে মুক্তই করিতেছে। নৌকার গুণ নৌকাকে বাঁধিয়া রাখে নাই, নৌকাকে টানিয়া টানিয়া লইয়া চলিয়াছে। জগতের সমস্ত আকর্ষণ-পাশ আমাদিগকে তেমনি অগ্রসর করিয়া দিতেছে। কেহ বা দ্রুত চলিয়াছে বলিয়া সে আপন গতি সম্বন্ধে সচেতন, কেহ বা মন্দগমনে চলিতেছে বলিয়া মনে করিতেছে বুঝি বা সে এক জায়গায় বাঁধাই পড়িয়া আছে। কিন্তু সকলকেই চলিতে হইতেছে-সকলকেই এই জগৎসংসারের নিরস্তর টানে প্রতিদিনই কমবেশি পরিমাণে আপনার দিক হইতে বৃহতের দিকে ব্যাপ্ত হতে হইতেছে। জগতের সৌন্দর্যের মধ্য দিয়া, প্রিয়জনের মাধুর্যের মধ্য দিয়া ভগবানই আমাদিগকে টানিতেছেন-আর কাহারও টানিবার ক্ষমতা নাই। পৃথিবীর প্রেমের মধ্য দিয়াই সে ভূমানন্দের পরিচয় পাওয়া, জগতের এই রূপের মধ্য দিয়াই সে অপরূপকে সাক্ষাৎ করা, ইহাকেই তো আমি মুক্তির সাধনা বলি।
উত্তর: মুক্তির সাধনা
জাগতিক আকর্ষণ মানুষকে আবদ্ধ করে না, বরং তাঁকে অনন্তলোকে মুক্তিদান করে। বিশ্বলোকের যাত্রাপথে প্রতিটি মানুষই গতিশীল। ঐশ্বরিক অনুভূতি লাভের জন্য সচলতাই পার্থিব জগতে অপার্থিব আনন্দ দান করে মানুষকে।
সারাংশ প্র্যাকটিস ২৯
মূল পাঠ: একদিকে প্রত্যেকের স্বাতন্ত্র্যের স্ফূর্তি এবং অন্যদিকে সমগ্রের সহিত সামঞ্জস্য, এই দুই নীতিই একসঙ্গে কাজ করিতেছে। অহঙ্কার এবং প্রেম, বিকর্ষণ এবং আকর্ষণ সৃষ্টিকে একসঙ্গে গড়িয়া তুলিতেছে। স্বাতন্ত্র্যেও পূর্ণতা লাভ করিব এবং মিলনেও নিজেকে পূর্ণভাবে সমর্পণ করিব, ইহা হলেই মানুষের সার্থকতা ঘটে। অর্জন করিয়া আমার পুষ্টি হইবে এবং বর্জন করিয়া আমার আনন্দ হইবে, জগতের মধ্যে এই দুই বিপরীত নীতির মিলন দেখা যাইতেছে। ফলত, নিজেকে যদি পূর্ণ করিয়া না সঞ্চিত করি, তবে নিজেকে পূর্ণরূপে দান করিব কী করিয়া! সে দান কতটুকু হইবে! যত বড়ো অহংকার, তাহা বিসর্জন করিয়া তত বড়ো প্রেম।
উত্তর: 'জগতের আনন্দযজ্ঞে ....'
নিজস্বতা ও সহাবস্থান এই দুই বিপরীত ধারার একত্র মিলনই সৃষ্টিশীলতাকে অব্যাহত রাখে। গ্রহণ ও বর্জনের যুগপৎ ক্রিয়াই মানুষের জীবনকে সার্থক করে তোলে। তাই অহংকার বিসর্জন দিয়েই মানুষ আনন্দের পথে যাত্রা করতে পারে।
সারাংশ প্র্যাকটিস ৩০
মূল পাঠ: অভাব আছে বলিয়া জগৎ বৈচিত্র্যময় হইয়াছে। অভাব না থাকিলে জীব সৃষ্টি বৃথা হইত। অভাব আছে বলিয়া অভাব পূরণে এত উদ্যোগ। সংসার অভাবক্ষেত্র বলিয়া কর্মক্ষেত্র। অভাব না থাকিলে সকলেই স্থানু-স্থবির হইত, মানুষ্যজীবন বিড়ম্বনাময় হইত। মহাজ্ঞানীগণ অপরের অভাব দূর করিতে সর্বদা ব্যস্ত। জগতে অভাব আছে বলিয়াই মানুষ সেবা করিবার সুযোগ পাইয়াছে। সেবা মানবজীবনের পরম ধর্ম। সুতরাং অভাব হইতেই সেবাধর্মের সৃষ্টি হইয়াছে। আর এই সেবাধর্মের দ্বারাই মানুষের মনুষ্যত্বসুলভ গুণ সার্থকতা লাভ করিয়াছে।
উত্তর: অভাব
অপ্রাপ্তিজনিত অনুভূতি মানুষকে সৃজনশীল করে তুলেছে। এই অপ্রাপ্তিই যেমন বিচিত্রধর্মী বিশ্বের নির্মাতা, তেমনই মানুষকে সেবাকর্মেও প্রাণিত করেছে। আর এই অপরের প্রতি সহমর্মিতাই মানবিক গুণের শ্রেষ্ঠতম প্রকাশ।
Comments
Post a Comment