20 টি সারাংশ

 প্র্যাকটিস - ১

মূল পাঠ: যিনি ক্ষমতাসম্পন্ন লোক তিনি নিজের কীর্তির মধ্যেই বাঁচিয়া থাকেন। তিনি যদি নিজেকে বাঁচাইতে না পারেন, তবে তাহাকে বাঁচাইবার চেষ্টা আমরা করিলে তাহা হাস্যকর হয়। বঙ্কিমকে কি আমরা স্বহস্তরচিত পাথরের মূর্তি দ্বারা অমরত্ব লাভে সহায়তা করিব? আমাদের চেয়ে তাঁহার ক্ষমতা কি অধিক ছিল না? তিনি কি নিজের কীর্তিকে স্থায়ী করিয়া যান নাই? হিমালয়কে স্মরণ রাখিবার জন্য কি চাঁদা করিয়া তাহার একটা কীর্তিস্তম্ভ স্থাপন করার প্রয়োজন আছে? হিমালয়কে দর্শন করিতে গেলেই তাহার দেখা পাইব অন্যত্র তাহাকে স্মরণ করিবার উপায় করিতে যাওয়া মূঢ়তা। কৃত্তিবাসের জন্মস্থানে বাঙালি একটা কোনো প্রকারের ধূমধাম করে নাই বলিয়া বাঙালি কৃত্তিবাসকে অবজ্ঞা করিয়াছে, একথা কেমন করিয়া বলিব? যেমন 'গঙ্গা পূজি গঙ্গাজলে', তেমনই বাংলাদেশের মুদির দোকান হইতে রাজার প্রাসাদ পর্যন্ত কীর্তিদ্বারাই কৃত্তিবাস কত শতাব্দী ধরিয়া প্রত্যহ পূজিত হইয়া আসিতেছেন। এমন প্রত্যক্ষ পূজা আর কিসে হইতে পারে?  

উত্তর: 

কীর্তির অমরত্ব

সৃষ্টির মাধ্যমেই সৃষ্টিশীল ব্যক্তি তাঁর নিজ প্রতিভার পরিচয় রাখেন। সৃজনকে বাদ দিয়ে বাহ্য আড়ম্বরের সাহায্যে সৃজনশীল মানুষকে চিরস্থায়ীত্ব প্রদানের চেষ্টা অর্থহীন। কীর্তিমান ব্যক্তিকে স্মরণ করার জন্য তাঁর কর্মের চর্চা ও প্রসার প্রয়োজন, লোকদেখানো আয়োজনের দ্বারা তাঁকে অমরত্ব প্রদানের চেষ্টা মূর্খতার নামান্তর।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ২

মূল পাঠ: যাহার মধ্যে পুণ্য আছে, যিনি সত্য ও জ্ঞানের সাধক, তিনিই মানুষের পূজা পাইবার যোগ্য। অর্থ, বাহিরের চাকচিক্য, অন্যায় ক্ষমতা, অসত্য ও অজ্ঞান যেখানে সম্মান লাভ করে, সেখানে জাতির পতন আরম্ভ হয়। তবে ইহাও সত্য যে, ব্যক্তিত্বকে নষ্ট করিয়া কাহাকেও অধিক সম্মান প্রদর্শন ভালো নয়, তাহাতে মানের অবনতি ঘটে। অন্ধভক্তি ও পূজার দ্বারা কাহারও কোনো কল্যাণ হয় না, উহাতে উত্থানের পথ বন্ধ হইয়া যায়।  

উত্তর: সম্মানের যোগ্যতা

পুণ্যবান, জ্ঞানী ও সত্যের পথে যিনি অবিচল, তিনিই মানুষের পূজ্য। বাহ্য আড়ম্বুর, ক্ষমতার দম্ভ, জ্ঞান ও সত্যের অভাব সম্মাননীয় জাতির পতনের সূচক। আবার ব্যক্তিত্ববিনাশী ও বিচারশক্তিশূন্য ভক্তি অকল্যাণকর ও জাতীয় উন্নতির প্রতিবন্ধক।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ৩

মূল পাঠ: অজানাকে জানা, অচেনাকে চেনা, অদেখাকে দেখার আকাঙ্ক্ষা মানুষের চিরদিনের। তার ভিতরের মানুষটি সর্বদাই সুদূরের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। তার আহ্বানে সাড়া না দিয়ে পারে না। বেড়িয়ে পড়ে ঘর ছেড়ে। কিন্তু তার হৃদয় তৃপ্ত হয় না। ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হয় ঘরে, বাংলার নদনদী, গাছ-গাছালি, পাখ-পাখালি, মাঠ-ঘাট সবই তো ঘরের পাশে। এই সৌন্দর্য চেতনা জলে, স্থলে, অন্তরীক্ষে, পর্বতে থাকে না, থাকে মানুষের মনে। সেই সৌন্দর্য উপলব্ধি করে, উপভোগ করে আনন্দ লাভ করে। তখন অতি সাধারণ তুচ্ছ বস্তুও অসাধারণ অনির্বচনীয় হয়ে ওঠে। মানুষের চেতনার রঙে, অনুভূতিতে পৃথিবী রঙিন ও সৌন্দর্যময় হয়ে ওঠে। তার জন্য ঘর ছেড়ে সুদূরে যেতে হয় না, ঘরের পাশের সৌন্দর্যই যথার্থ সুন্দর হয়ে ওঠে। সাহিত্যিক শিল্পীরা তাই যুগ যুগ ধরে আপন উপলব্ধি ও অনুভূতির মধ্যেই সৌন্দর্য পিপাসা চরিতার্থ করেছেন।  

উত্তর: সুদূরের পিয়াসী

দেশ-বিদেশের অতুলনীয় রূপ সৌন্দর্য উপভোগের জন্য ভ্রমণপিপাসু মানুষ দুর্নিবার আকর্ষণে বেরিয়ে পড়ে পরিচিত সীমানার গণ্ডি ছেড়ে। কিন্তু সে মানসিক সন্তুষ্টি লাভ করে না। আসলে প্রাত্যহিক জগতের অপরিমেয় সৌন্দর্য অন্তরানুভূতি দিয়ে দেখলে পৃথিবীর সর্বোত্তম সৌন্দর্যের আস্বাদ লাভ করা যায়। তাই সৃষ্টিশীল মানুষেরা তাঁদের মননে এই সৌন্দর্যের চর্চাই করেছেন।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ৪

মূল পাঠ: বিদ্যা মানুষের মূল্যবান সম্পদ, সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। কিন্তু চরিত্র তদপেক্ষাও মূল্যবান। অতএব, কেবল বিদ্বান বলিয়াই কোনো লোক সমাদর লাভের যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইতে পারে না। চরিত্রহীন ব্যক্তি যদি নানা বিদ্যায় আপনার জ্ঞানভাণ্ডার পূর্ণ করিয়াও থাকে, তথাপি তাহার সঙ্গ পরিত্যাগ করাই শ্রেয়। প্রবাদ আছে যে, কোনো কোনো বিষধর সর্পের মস্তকে মণি থাকে। মণি মহামূল্যবান পদার্থ বটে, কিন্তু তাই বলিয়া যেমন মণিলাভের নিমিত্ত বিষধর সর্পের সাহচর্য লাভ করা বুদ্ধিমানের কার্য নহে, সেইরূপ বিদ্যা আদরণীয় হইলেও বিদ্যালাভের নিমিত্ত বিদ্বান দুর্জনের নিকট গমন বিধেয় নহে।  

উত্তর: বিদ্যা বনাম চরিত্র

বিদ্বান ও চরিত্রবান ব্যক্তির মধ্যে তুলনামূলক বিচারে চরিত্রবান ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। চারিত্রিক শুদ্ধতা বিহীন জ্ঞান অর্থহীন। তাই চরিত্রহীন বিদ্বান ব্যক্তির সাহচর্য সবসময় পরিত্যাজ্য।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ৫

মূল পাঠ: মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব ওপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে। অবশ্য জীবসত্তার ঘরেও সে কাজ করে; ক্ষুৎপিপাসার ব্যাপারটি মানবিক করে তোলা তার অন্যতম কাজ। কিন্তু তার আসল কাজ হচ্ছে মানুষকে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। অন্যকথায়, শিক্ষার যেমন প্রয়োজনের দিক আছে, তেমনই অপ্রয়োজনের দিকও আছে; আর অপ্রয়োজনের দিকই তার শ্রেষ্ঠ দিক। সে শেখায় কী করে জীবনকে উপভোগ করতে হয়, কী করে মনের মালিক হয়ে অনুভূতি ও কল্পনার রস আস্বাদন করা যায়।  

উত্তর: মানবজীবন ও শিক্ষা

মনুষ্যজীবন দ্বিস্তরীয়। জৈবিক সত্তা ও মানবিক সত্তা তার প্রধান ভিত্তি। ক্ষুন্নিবৃত্তি ছাড়াও শিক্ষা মানুষকে মানবসত্তার অভিমুখে চালনা করে। মানবজীবনে আনন্দের রসদও যোগান দেয় শিক্ষা।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ৬

মূল পাঠ: নিন্দা না থাকিলে পৃথিবীতে জীবনের গৌরব কি থাকিত? একটা ভালো কাজে হাত দিলাম, তাহার নিন্দা কেহ করে না - সে ভালো কাজের দাম কি! একটা ভালো কিছু লিখিলাম, তাহার কেহ নিন্দুক নাই ভালো গ্রন্থের পক্ষে এমন মর্মান্তিক অনাদর কি হতে পারে? জীবনকে ধর্মচর্চায় উৎসর্গ করিলাম, যদি কোনো মন্দ লোক তাহার মধ্যে মন্দ অভিপ্রায় না দেখিল, তবে সাধুতা যে নিতান্তই সহজ হইয়া পড়িল। মহত্ত্বকে পদে পদে কাঁটা মাড়াইয়া চলিতে হয়। ইহাতে যে হার মানে, বীরের সদগতি সে লাভ করে না। পৃথিবীতে নিন্দা দোষীকে সংশোধন করিবার জন্য আছে - তাহা নহে, মহত্ত্বকে গৌরব দেওয়া তাহার একটা মস্ত কাজ।  

উত্তর: নিন্দার সার্থকতা

বিরূপ মন্তব্যই শ্রমকে সার্থক করে তোলে। সমালোচনাবিহীন সাহিত্য মূল্যহীন। আবার ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের ছিদ্রান্বেষীরাই ধর্মের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। আসলে নিন্দুকেরা তাদের অজান্তেই কাজকে গরিমান্বিত করে তোলেন।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ৭

মূল পাঠ: দেশের জন্য মন কেমন করা একটি চমৎকার অনুভূতি। যাহারা চিরকাল এক জায়গায় কাটায়, স্বগ্রাম বা তাহার নিকটবর্তী স্থান ছাড়িয়া নড়ে না- তাহারা জানে না ইহার বৈচিত্র্য। দূর প্রবাসে আত্মীয় স্বজন শূন্য স্থানে দীর্ঘদিন যে বাস করিয়াছে সে জানে বাংলাদেশের জন্য, নিজের গ্রামের জন্য, দেশের প্রিয় আত্মীয়-স্বজনের জন্য মন কি রকম হু হু করে, অতি তুচ্ছ পুরাতন ঘটনাও তখন অপূর্ব বলিয়া মনে হয়। যাহা হইয়া গিয়াছে, জীবনে আর হইবার নহে - পৃথিবী উদাস হইয়া যায়, বাংলাদেশের প্রত্যেক জিনিস অত্যন্ত প্রিয় হইয়া উঠে।  

উত্তর: স্মৃতিতে প্রত্যাবর্তণ

জন্মভূমিকে কেন্দ্র করে স্মৃতিমেদুরতায় আচ্ছন্ন হওয়ার অনুভব অতুলনীয়। নিজের পরিচিত গণ্ডীর বাইরে যে মানুষ জীবন কাটাননি, তিনি এর আস্বাদ থেকে বঞ্চিত। প্রবাস জীবনে দেশের অত্যন্ত সামান্য ঘটনা বা বস্তুও গুরুত্বে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ৮

মূল পাঠ: আমাদের চাষী বলে, মাটি হইতে বাপ-দাদার আমল হইতে যাহা পাইয়া আসিতেছি তাহার বেশি পাইব কী করিয়া? এই কথা চাষীর মুখে শোভা পায়, পূর্বপ্রথা অনুসরণ করিয়া চলা তাহার শিক্ষা। কিন্তু সেই কথা বলিয়া আমরা নিষ্কৃতি পাইব না। এই মাটিকে এখনকার প্রয়োজন অনুসারে বেশি করিয়া ফলাইতে হইবে, না হইলে আধপেটা খাইয়া, অজীর্ণ রোগে মরিতে কিংবা জীবনৃত হইয়া থাকিতে হইবে। এই মাটির ওপরে মন ও বুদ্ধি খরচ করিলে এই মাটি হইতে যে আমাদের দেশের মোট চাষের ফসলের চেয়ে অনেক বেশি আদায় করা যায় তাহার অনেক দৃষ্টান্ত আছে। আজকাল চাষকে মূর্খের কাজ বলা চলে না, চাষের বিদ্যা এখন মস্ত বিদ্যা হইয়া উঠিয়াছে।  

উত্তর: চাষের সেকাল ও একাল

চাষের গতানুগতিক পদ্ধতির প্রতি আনুগত্য থাকা কৃষকের পক্ষে স্বাভাবিক হলেও সচেতন মানুষ তার সমর্থক হতে পারেন না। সময়োপযোগী আধুনিক কর্ষণই খাদ্যের সম্পূর্ণ চাহিদা মেটাতে পারে। তাই বর্তমানে কৃষিকাজ হয়ে উঠেছে জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার অংশ।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ৯

মূল পাঠ: রামায়ণের প্রধান বিশেষত্ব এই যে তাহা ঘরের কথাকেই অত্যন্ত বৃহৎ করিয়া দেখাইয়াছে। পিতাপুত্রে, ভ্রাতায় ভ্রাতায়, স্বামী স্ত্রীতে যে ধর্মের বন্ধন, যে প্রীতিভক্তির সম্বন্ধ, রামায়ণ তাহাকে এত মহৎ করিয়া তুলিয়াছে যে তাহা অতি সহজেই মহাকাব্যের উপযুক্ত হইয়াছে। দেশ জয়, শত্রু বিনাশ, দুই প্রবল বিরোধী পক্ষের প্রচণ্ড আঘাত - সংঘাত, এই সমস্ত ব্যাপারই সাধারণত মহাকাব্যের মধ্যে আন্দোলন ও উদ্দীপনা সঞ্চার করিয়া থাকে। কিন্তু রামায়ণের মহিমা রামায়ণের যুদ্ধকে আশ্রয় করিয়া নাই, সে যুদ্ধ ঘটনা রাম ও সীতার দাম্পত্য প্রীতিকেই উজ্জ্বল করিয়া দেখাইবার উপলক্ষ মাত্র। পিতার প্রতি পুত্রের বশ্যতা, ভ্রাতার জন্য ভ্রাতার আত্মত্যাগ, পতিপত্নীর মধ্যে পরস্পরের প্রতি নিষ্ঠা ও প্রজার প্রতি রাজার कर्तव्य কতদূর যাইতে পারে রামায়ণ তাহাই দেখাইয়াছে। এইরূপ ব্যক্তিবিশেষের, বিশেষত ঘরের সম্পর্কগুলি কোনো দেশের মহাকাব্যে এমনভাবে বর্ণনীয় বিষয় বলিয়া গণ্য হয় না।  

উত্তর: রামায়ণের বিশেষত্ব

রাজ্যদখল ও যুদ্ধের ভয়াবহতা সাধারণত মহাকাব্যের কাহিনি বিস্তারের প্রধান উপাদান হলেও রামায়ণ এই বিষয়ে ব্যতিক্রমী। এখানে বাবা, মা, ভাই, স্ত্রী, ছেলে প্রমুখকে কেন্দ্র করে যেমন পারিবারিক মধুর চিত্র স্থান পেয়েছে, তেমনই এখানে আদর্শ শাসকের গুণাবলীও বর্ণিত হয়েছে। পৃথিবীর মহাকাব্যের ইতিহাসে রামায়ণ তাই দুর্লভ ঐতিহ্যের অধিকারী।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ১০

মূল পাঠ: মহামতি গোখলে একদিন বাঙালির ললাটে গৌরব টিকা দিয়া বলিয়াছেন "ভারতবর্ষে বাঙালিই নব নব চিন্তার প্রবর্তক।" বাস্তবিক একদিন ছিল যখন বাঙালি কী ভাবে, কী বলে, বাংলার চিন্তা কী নূতন সত্য আবিষ্কার করিতেছে, এইসব জানিবার জন্য ভারতের অন্যান্য প্রদেশের লোক বাঙলার দিকে সাগ্রহে চাহিয়া থাকিত। কিন্তু সে গৌরব বাঙালি আজ হারাইতে বসিয়াছে। যে ছিল সকলের অগ্রগামী, সে আজ জীবনের নানাবিধ ক্ষেত্রে সকলের সকলের পশ্চাতে পড়িয়াছে। ডিগ্রিপ্রিয়, চাকুরিপ্রিয় বাঙালি বিলাসের আরামশয্যায়, আলস্যের নিদ্রায় সুখের স্বপ্ন দেখিতেছিল, আজ বড়ো দুঃখেই তাহার ঘুম ভাঙ্গিতেছে। বুদ্ধির অহংকারে অন্ধ হইয়া সে জীবন সংগ্রামে ফাঁকি দিয়া আসিয়াছে, তাই আজ প্রকৃতির এই নির্মম প্রতিশোধ।  

উত্তর: বাঙালির হৃতগৌরব

একসময় গোখলের প্রশংসাধন্য বাঙালি ছিল চিন্তা ও মননের ক্ষেত্রে সমগ্র ভারতের পথপ্রদর্শক। কিন্তু সেই সম্মানে বঞ্চিত, হৃতগৌরব বাঙালি বর্তমানে বহু বিষয়েই পশ্চাদগামী বুদ্ধির দম্ভে সে জীবন-সংগ্রামে বিমুখ। আজ বিলাসী, আরামপ্রিয়, জীবনযুদ্ধবিমুখ, অলস বাঙালির মোহভঙ্গে চৈতন্যোদয় ঘটেছে।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ১১

মূল পাঠ: আমাদের শিক্ষিত লোকদের জ্ঞান যে নিষ্ফল হয়, অভিজ্ঞতা যে পল্লিবাসীর কাজে লাগে না, তার কারণ আমাদের অহমিকা, যাতে আমাদের মিলতে দেয় না, ভেদকে জাগিয়ে রাখে। তাই আমি বারংবার বলি, গ্রামবাসীদের অসম্মান কোরো না, যে শিক্ষায় আমাদের প্রয়োজন তা শুধু শহরবাসীদের জন্য নয়, সমস্ত দেশের মধ্যে তার ধারাকে প্রবাহিত করতে হবে। সেটা যদি শুধু শহরের লোকদের জন্য নির্দিষ্ট থাকে তবে তা কখনো সার্থক হতে পারে না। মনে রাখতে হবে শ্রেষ্ঠত্বের উৎকর্ষে সকল মানুষেরই জন্মগত অধিকার। গ্রামে গ্রামে আজ মানুষকে এই অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। আজ আমাদের সকলের চেয়ে বড়ো দরকার শিক্ষার সাম্য। অর্থের দিক দিয়ে এর ব্যাঘাত আছে জানি, কিন্তু এ ছাড়া কোনো পথও নেই। নতুন যুগের দাবি মেটাতেই হবে।  

উত্তর: শিক্ষার লক্ষ্য

মানুষের পাণ্ডিত্যের অহংকার নগরবাসী ও গ্রামবাসীর মধ্যে দুস্তর ব্যবধান রচনা করে। গ্রাম-শহর নির্বিশেষে সর্বজনীন শিক্ষাই পারে সফল ও ভারসাম্যযুক্ত শিক্ষার পরিমণ্ডল রচনা করতে। কিছু আর্থিক সমস্যা থাকলেও এটিই আগামী দিনের চাহিদা।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ১২

মূল পাঠ: বাঙালির বিজ্ঞানভাবনা এবং সাধনার প্রাথমিক পরিচয় মূলত কলকাতা কেন্দ্রিক। জব চার্ণকের পদার্পণের পর থেকে কলকাতার বিকাশ এবং বিস্তৃতি ঘটেছে তার প্রয়োজন অনুসারে। সেইজন্য জ্ঞানের অন্বেষণ এবং বিজ্ঞানের যে প্রয়োগ দেখা যায় ইংরেজ আমলে, যুগের প্রয়োজনে তা ছিল আপন স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্য। অবশ্য প্রথম দিকে তার গতি ছিল শ্লথ। সেখানে বাঙালির ভূমিকা নেই, বিজ্ঞানের অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া কঠিন। নীচু জলাজমি জনসমষ্টির অধিকাংশই শ্রমজীবী, মৎস্যজীবী বা কৃষিজীবী। পরিবেশও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং গ্রামীণ অজ্ঞতা ও অন্ধকারে আচ্ছন্ন। সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ছাপ পড়েনি। তবে সাধারণ শিক্ষার জন্য টোল এবং মাদ্রাসা চালু ছিল। সেখানে পড়াতেন গুরুমশায় ও পণ্ডিতেরা। আর স্বাস্থ্যরক্ষার জন্যে আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করতেন কবিরাজরা প্রাচীনকাল থেকে বংশপরম্পরায় যার চর্চা চলে আসছে।  

উত্তর: বিজ্ঞানচর্চা

শহর কলকাতাকে ভিত্তি করেই প্রারম্ভিক পর্যায়ে বাঙালি মননে বিজ্ঞানচিন্তা প্রদান করে নিয়েছে। ইংরেজ শাসনকালে ধীর লয়ে বাঙালির অবদানবিহীন বিজ্ঞানচর্চা ছিল শাসকদের উদ্দেশ্য পূরণের হাতিয়ার। সমাজের প্রান্তবাসী মানুষের জীবনে বিজ্ঞানের আলো পৌঁছায়নি। সেসময় টোল-মাদ্রাসা কেন্দ্রিক শিক্ষা এবং কবিরাজী চিকিৎসাই ছিল একমাত্র ভরসা।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ১৩

মূল পাঠ: সংসার আমাদের জীবনের সমস্ত কাজ গ্রহণ করে, কিন্তু আমাদিগকে তো গ্রহণ করে না। আমরা চিরজীবনের ফসল যখন সংসারের নৌকায় বোঝাই করিয়া দিই তখন মনে তো আশা থাকে যে আমারও ঐ সঙ্গে স্থান হইবে, কিন্তু সংসার আমাদিগকে দুই দিনেই ভুলিয়া যায়। একবার ভাবিয়া দেখো, কত লক্ষ কোটি বিস্তৃত মানবের জীবনপাতের ওপর আমাদের প্রত্যেকের জীবনে গঠিত। আমাদের আহার-বিহার, বসন-ভূষণ, ধর্ম-কর্ম, ভাবাভাব সমস্তই পূর্ববর্তী অসংখ্য মানুষের বিস্তৃত কর্ম, বিস্তৃত চেষ্টার দ্বারা বিধৃত। আমরা যে আগুন জ্বালাইয়া রাখি, যাহারা আগুন আবিষ্কার করিয়াছিল তাহাদিগকে কে জানে? যাহারা চাষ আরম্ভ করিয়াছিল তাহাদেরই নামই বা কোথায়? আমাদের জীবনের ফসল কোনো না কোনো আকারে থাকিয়া যায়, কিন্তু আমরা থাকিব না।  

উত্তর: জীবনের সার্থকতা

জাগতিক ক্ষেত্রে মানুষের উল্লেখযোগ্য কাজের প্রভাব থেকে যায়, কিন্তু এর সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষটি চলে যান বিস্মৃতির আড়ালে। মানবসমাজের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি অংশ এবং তার মননের বিস্তার সবকিছুই পূর্বজদের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডের ফলশ্রুতি। সভ্যতার কোনো না কোনো ক্ষেত্রে অবদান রাখা মানুষ তার অবর্তমানে কাজের মধ্য দিয়েই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকেন।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ১৪

মূল পাঠ: একথা মানিতেই হইবে, আমাদের দেশে ধর্ম লইয়া হিন্দু মুসলমানের মধ্যে কঠিন বিরুদ্ধতা আছে। যেখানে সত্যভ্রষ্টতা সেখানেই অপরাধ, যেখানেই অপরাধ সেইখানেই শাস্তি। ধর্ম যদি অন্তরের জিনিস না হইয়া শাস্ত্রমত ও বাহ্য আচরণকেই মুখ্য করিয়া তোলে তবে সেই ধর্ম যত বড়ো অশান্তির কারণ হয় এমন আর কিছুই হয় না। এই 'ডগমা' অর্থাৎ শাস্ত্রমতকে বাহির হইতে পালন করা লইয়া ইতিহাস কতবার লাল হইয়াছে, অহিংসাকে যদি ধর্ম বলো, তবে সেটাকে কর্মক্ষেত্রে দুঃসাধ্য বলিয়া ব্যবহারে মানিতে পারি, কিন্তু বিশুদ্ধ আইডিয়ালের ক্ষেত্রে সেটাকে স্বীকার করিয়া ক্রমে সেদিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নহে। কিন্তু বিশেষ শাস্ত্রমতের অনুশাসনে বিশেষ করিয়া যদি অন্য ধর্মমতের মানুষকেও মানাইতে চেষ্টা করা হয়, তবে মানুষের সঙ্গে মানুষের বিরোধ কোনোকালেই মিটিতে পারে না। নিজে ধর্মের নামে পশুহত্যা করিলেই নরহত্যার আয়োজন করিতে থাকিব, ইহাকে অত্যাচার ছাড়া আর কোনো নাম দেওয়া যায় না।  

উত্তর: সাম্প্রদায়িক সমস্যা

হিন্দু মুসলমানের সাম্প্রদায়িক সমস্যার মূল উৎস হল চিরন্তন আদর্শ থেকে বিচ্যুতি। ধর্মগ্রন্থের মূল বক্তব্যকে হৃদয়ঙ্গম না করে আচার বিচারকে বড়ো করে তুললেই যে হানাহানি দেখা যায়, অতীতের একাধিক ঘটনা তার সাক্ষ্য বহন করছে। নিজের ধর্মীয় আদর্শকে অন্যের উপর বলপূর্বক আরোপ করলে মানুষের সাথে মানুষের বৈরিতা সৃষ্টি হবে।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ১৫

মূল পাঠ: জীবনের একটি প্রধান লক্ষণ হাসি ও আনন্দ। যার প্রত্যেক কাজে আনন্দ স্ফূর্তি তার চেয়ে সুখী আর কেউ নয়। জীবনে যে পুরোপুরি আনন্দ ভোগ করতে জানে আমি তাকে বরণ করি। স্থূল দৈনন্দিন কাজের ভেতর সে এমন একটা কিছুর সন্ধান পেয়েছে যা তার নিজের জীবনকে সুন্দর ও শোভনীয় করেছে এবং পারিপার্শ্বিক দশজনের জীবনকে উপভোগ্য করে তুলেছে। এই যে এমন একটা জীবনের সন্ধান যার ফলে সংসারকে মরুভূমি বোধ না হয়ে ফুলবাগান বলে মনে হয়। সে সন্ধান সকলের মেলে না। যার মেলে সে পরম ভাগ্যবান। এরূপ লোকের সংখ্যা যেখানে বেশি সেখান থেকে কলুষ বর্বরতা আপনাআপনি দূরে পালায়। সেখানে প্রেম, পবিত্রতা সর্বদা বিরাজ করে।  

উত্তর: 'জগতের আনন্দযজ্ঞে.....'

কর্মের মধ্যে আনন্দের সন্ধান যারা করতে পারেন তারাই বন্দনীয়। প্রাত্যহিক একঘেয়ে কাজকে হাসিমুখে মেনে নিয়ে এই মানুষেরা অন্যদের জীবনকে আনন্দময় করে তোলেন। এই ধরণের মানুষের উপস্থিতি নেতিবাচক পরিবেশকে দূর করে তাকে শাশ্বত আনন্দে ভরিয়ে তোলেন।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ১৬

মূল পাঠ: তুমি বসন্তের কোকিল, বেশ লোক। যখন ফুল ফোটে, দক্ষিণ বাতাস বহে, এ সংসার সুখের স্পর্শে শিহরিয়া উঠে, তখন তুমি আসিয়া রসিকতা আরম্ভ কর। আর যখন দারুণ শীতে জীবলোকে থরহরি কম্প লাগে, তখন কোথায় থাক বাপু - যখন শ্রাবণের ধারায় আমার চালাঘরে নদী বহে, যখন বৃষ্টির চোটে কাক চিল ভিজিয়া গোময় হয়, তখন তোমার মাজা মাজা কালো দুলালী ধরনের শরীরখানি কোথায় থাকে? তুমি বসন্তের কোকিল, শীত বর্ষার কেহ নহ। রাগ করিও না তোমার মত আমাদের মাঝখানে অনেক আছেন। যখন নসীবাবুর তালুকের খাজনা আসে, তখন মানুষ কোকিলে তাহার গৃহকুঞ্জ পুরিয়া যায় কত টিকি, ফোঁটা, তেড়ি চশমার হাট লাগিয়া যায়। যখন তাঁহার বাড়িতে নাচ গান যাত্রাপর্ব উপস্থিত হয়, তখন দলে দলে মানুষ কোকিল আসিয়া তাঁহার ঘরবাড়ি আঁধার করিয়া তুলে কেহ খায়, কেহ গায়, কেহ হাসে, কেহ কাশে, কেহ তামাক পোড়ায়, কেহ হাসিয়া বেড়ায়, কেহ মাত্রা চড়ায়, কেহ টেবিলের নীচে গড়ায়। যখন নসীবাবু বাগানে যান, তখন মানুষ কোকিল তাঁহার সঙ্গে পিপীড়ার সারি দেয়। আর যে রাত্রে অবিশ্রাপ্ত বৃষ্টি হইতেছিল, আর নসীবাবুর পুত্রটির অকাল মৃত্যু হইল, তখন তিনি একটি লোক পাইলেন না।  

উত্তর: আপন-পর

সংসারে স্বার্থান্বেষী ও সুযোগসন্ধানী মানুষের অভাব নেই। তারা কারুর ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের আশায় হীন স্তাবকতায় লিপ্ত হয় এবং আমোদ-প্রমোদের অংশীদার হয়। কিন্তু সেই ব্যক্তির দুঃসময়ে ভাগ্যবিপর্যয়ে যখন স্বার্থসিদ্ধির সুযোগ থাকে না তখন তারা আশ্রয়দাতাকে বিপদগ্রস্ত দেখেও পরিত্যাগ করতে দ্বিধা বোধ করে না।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ১৭

মূল পাঠ: আমাদের লড়াই ভূতের সঙ্গে, আমাদের লড়াই অবুদ্ধির সঙ্গে, আমাদের লড়াই অবাস্তবের সঙ্গে সেই আমাদের চারিদিকে ভেদ এনেছে, সেই আমাদের কাঁধের উপর পরবশতাকে চাপিয়ে দিয়েছে, সেই আমাদের এতদূর অন্ধ করে দিয়েছে যে যখন চীৎকার শব্দে ঢেলাকে গাল পেড়ে গলা ভাঙছি তখন সেই ভূতটাকে পরমাত্মীয় পরমারাধ্য বলে তাকেই আমাদের বাস্তু ভিটে দেবত্র করে ছেড়ে দিয়েছি। ঢেলার দিকে তাকালে আমাদের পরিত্রাণের আশা থাকে না, কেননা জগতে ঢেলা অসংখ্য, ঢেলা একটা ফুরোলে হাজারটা আসে- কিন্তু ভূত একটা। সেই ভূতটাকে ঝেড়ে ফেলতে পারলে ঢেলাগুলো পায়ে পড়ে থাকে, গায়ে পড়ে না।  

উত্তর: কুসংস্কারের বেড়াজাল

কুসংস্কার অলীক ভীতি ও যুক্তিহীনতায় মন আচ্ছন্ন করে রাথে। তখন জীবনের প্রতিটা স্তরে মিথ্যা ও অবাস্তবতা আধিপত্য বিস্তার করে। এসব যে অলীক অসত্য তা বুঝেও মানুষ আত্মসমর্পণ করে। এক কুসংস্কার আর অন্ধবিশ্বাস নানা মূর্তি ধরে দেখা দেয়।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ১৮

মূল পাঠ: মাতৃস্নেহের তুলনা নাই, কিন্তু অতি স্নেহ অনেক সময় অমঙ্গল আনয়ন করে। যে স্নেহের উত্তাপে সন্তানের পরিপুষ্টি, তাহারই আধিক্যে সে অসহায় হইয়া পড়ে। মাতৃহৃদয়ের মমতার প্রাবল্যে মানুষ আপনাকে হারাইয়া আপন শক্তির মর্যাদা বুঝিতে পারে না। নিয়ত মাতৃস্নেহের অন্তরালে অবস্থান করিয়া আত্মশক্তির সন্ধান সে পায় না-দুর্বল, অসহায় পক্ষীশাবকের মতো চিরদিন স্নেহাতিশয্যে আপনাকে সে একান্ত নির্ভরশীল মনে করে। ক্রমে জননীর পরম সম্পদ সন্তান অলস, ভীরু, দুর্বল ও পরনির্ভরশীল হইয়া মনুষ্যত্ব বিকাশের পথ হইতে দূরে সরিয়া যায়। অন্ধ মাতৃস্নেহ সে কথা বুঝে না-অলসকে সে প্রাণপাত করিয়া সেবা করে ভীরুতার দুর্দশা কল্পনা করিয়া বিপদের আক্রমণ হইতে ভীরুকে রক্ষা করিতে ব্যর্থ হয়।  

উত্তর: মাতৃস্নেহের প্রভাব

সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা তুলনাহীন ঠিকই, কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত হলে তা সন্তানের জীবনে নেতিবাচক প্রভাবও ফেলে। জগতে নিজেকে মেলে ধরতে গেলে যে মানসিক বিকাশের দরকার, তার ঘাটতি দেখা যায় সন্তানের আচরণে। পরিণত বয়সেও ব্যক্তিত্বহীন হয়ে সে মায়ের করুণার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ১৯

মূল পাঠ: ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাই হল জ্ঞানীর কাজ। পিঁপড়ে মৌমাছি পর্যন্ত যখন ভবিষ্যতের জন্য ব্যতিব্যস্ত, তখন মানুষের কথা বলাই বাহুল্য। ফকির-সন্ন্যাসী যে ঘরবাড়ী ছেড়ে, আহার-নিদ্রা ভুলে, পাহাড়-জঙ্গলে চোখ বুজে বসে থাকে, সেটা যদি নিতান্ত গঞ্জিকার কৃপায় না হয়, তবে বলতে হবে ভবিষ্যতের ভাবনা ভেবে। সমস্ত জীব জন্তুর দুটো চোখ সামনে থাকবার মানে হল ভবিষ্যতের দিকে যেন নজর থাকে। অতীতের ভাবনা ভেবে লাভ নেই। পণ্ডিতেরা তা বলে গেছেন, 'গতস্য শোচনা নাস্তি'। আর বর্তমানে নেই বললেই চলে। এই যেটা বর্তমান সেই-এই কথা বলতে বলতে অতীত হয়ে গেল। কাজেই তরঙ্গ গোনা আর বর্তমানের চিন্তা করা সমানই অনর্থক। ভবিষ্যৎ হল আসল জিনিস। সেটা কখনও শেষ হয় না। তাই ভবিষ্যতে মানব কেমন হবে সেটা একবার ভেবে দেখা উচিত।  

উত্তর: ভবিষ্যতের জন্য

মানুষের জীবনে বর্তমান সময় একেবারেই ক্ষণস্থায়ী। আবার ফেলে আসা দিনের জন্য অনুশোচনা করাও যে বৃথা তা জ্ঞানী ব্যক্তিদের বাণী থেকে জানা যায়। কীটজগতের আচরণ প্রমাণ করে যে তারাও অনাগত দিনের চিন্তায় ব্যস্ত। সুতরাং মানুষেরও উচিত আগামীদিনের কথা মাথায় রেখে বর্তমানের কর্মপরিকল্পনা রূপায়ণ করা।  

সারাংশ প্র্যাকটিস - ২০

মূল পাঠ: সংহতি ও শৃঙ্খলা যেমন ব্যক্তিগত জীবনে, তেমনি রাষ্ট্রীয় জীবনে ও জাতীয় জীবনে মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসে। শত্রুর ষড়যন্ত্রে জাতির জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সঙ্কট দেখা দিতে পারে, সংহতি ও শৃঙ্খলা তা থেকে জাতিকে রক্ষা করে। ক্ষুদ্র স্বার্থান্ধতা ও ভেদবুদ্ধি পরিত্যাগ করে বৃহত্তর মানবতামুখী পরিচর্যায় পরিব্যাপ্ত করতে হবে আমাদের চিন্তা ও কর্মকে। তবেই তা অনিষ্টকর না হয়ে হয়ে উঠবে কল্যাণের, শান্তির। জাতির পক্ষে যেকোনো পরিকল্পনা কার্যকরী করতে হলে, সাফল্যমণ্ডিত করতে হলে চাই ঐক্য, শৃঙ্খলা ও শান্তি। শিক্ষা, ব্যবসা, বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রে সার্বিক উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন বড়-ছোট, ধলো-কালো, পূর্বী-পশ্চিমী বলে কোন ভেদাভেদ থাকে না। সাম্য ও মৈত্রীর ওপর প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থাই মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসতে পারে। প্রগতি বলতে যদি জাতির প্রতিটি ব্যক্তির উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি বোঝায়, তাহলে সেই প্রগতি অবশ্যই ঐক্য, শৃঙ্খলা, সাম্য ও মৈত্রীভিত্তিক হতে হবে। ব্যক্তির কল্যাণ মানেই জাতির কল্যাণ, আর জাতির কল্যাণ মানেই আন্তর্জাতিক তথা বিশ্বের কল্যাণ।  

উত্তর: শৃঙ্খলার গুরুত্ব

মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে একতা ও নিয়মানুবর্তিতা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, জাতীয় সংকট মোকাবিলায়ও তা একইভাবে কার্যকরী। আর্থ-সামাজিক বৈষম্য বা কোনোরকম বর্ণবৈষম্য রাষ্ট্রীয় উন্নতির প্রতিবন্ধক, এক্ষেত্রে সমদৃষ্টি প্রয়োজন। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কল্যাণমূলক কাজই পরবর্তীকালে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যপ্ত হয়।  


Comments

Popular posts from this blog

200টি গুরুত্বপূর্ন বাক্য

Translation

Ready Made Line for Report Writing